শুক্রবার, মে ২৯, ২০২০
- Advertisement -
Home ভ্রমন ‘নকশি পল্লী রেস্টুরেন্ট’এর ঘরোয়া আয়োজনে একদিন

‘নকশি পল্লী রেস্টুরেন্ট’এর ঘরোয়া আয়োজনে একদিন

বন্ধুদের মুখে পূর্বাচল এরিয়ার নাম শুনেছি অনেক। কিন্তু যাওয়া হয়নি কখনো। সুযোগ পেয়ে গতকাল ঘুরে এলাম ঢাকার অদূরে তিনশো ফিট পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্প এরিয়ায়।

সকালবেলায় পিনি ফোন করে বলল, উত্তরা আসতে, আড্ডা আছে। দুপুরের একটু পরপর গিয়ে দেখি ওরা খাবার-দাবারের পায়তারা করছে। কিন্তু বুধবার উত্তরা সাইডের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন হওয়ায় কোন যুতসই রেস্টুরেন্ট খোলা পাওয়া গেল না। তখন নীল বলল, চল, পূর্বাচল যাই। ওখানে সুন্দর সুন্দর রেস্টুরেন্ট আছে।

তা-ই সই। আমাদের সঙ্গে গাড়ি থাকায় বেশিক্ষণ লাগল না। আধঘণ্টার মধ্যে গাড়ি তিনশো ফিটের ফাঁকা রাস্তা ধরে সাঁ সাঁ করে ছুটতে লাগল। বসুন্ধরার আবাসিক এরিয়া পেরিয়ে গাড়ি পূর্বাচল এরিয়ায় ঢুকে যেতেই দৃশ্যপট বদলে যেতে শুরু করে। সাদা কাশফুলের বনে ছেঁয়ে আছে চারপাশটা। যেন আকাশটা এখানে এসে হুট করে মাটিতে নেমে এসেছে। নিমিষেই মেঘের রাজ্যে এসে পৌঁছে গেছি আমরা।

নকশির ভেতরকার ঘরোয়া সাজসজ্জা। সোর্স- আদার ব্যাপারী

বালুর ব্রিজ পেরিয়ে পূর্বাচল বাজারের মুখ থেকে ডানদিকে নেমে গেছে একটি রোড। আরেকটু এগোতেই কালো পানির তুরাগ নদী চোখে পড়ল। ব্রিজের নদীটাই এদিক দিয়ে বয়ে গেছে। নদীর পাড় ধরে আমরা গিয়ে নামলাম ‘নকশি পল্লী রেস্টুরেন্ট’ এর সামনে। প্রথম দর্শনেই নামটা মনে ধরল। নামের ভেতর একটা ঘরোয়া পল্লীবালার গন্ধ আছে।

ভেতরে গিয়ে বুঝলাম, যা ভেবেছি, তার চেয়ে কিছুতে কম নয় এরা। মোটামুটি এক একর মতো জায়গা নিয়ে রেস্টুরেন্টটা বানানো। ইট-কাঠের বালাই নেই। শুধুমাত্র বেজমেন্ট ছাড়া সবখানে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশ। মাথার ওপর শুকনো ছনের ছাউনি। রেস্টুরেন্টের উত্তর ও পশ্চিম দিকটা জুড়ে ঢালাও দেউরি মতন। লম্বালম্বি এসব ঘরে কাঠের চেয়ার টেবিল পাতা। দক্ষিণ পাশে ওদের আউটলেট। আর মাঝখানের জায়গা জুড়ে ফুলের গাছ, পানি, তার ওপর সাঁকোর মতো রাস্তা করা।

নকশির কিছু সেট মেন্যু। সোর্স- Harriken

যা হোক, ভেতরে গিয়ে বসতেই একজন এগিয়ে এলো অর্ডার নেবার জন্য। কার্ড ঘেটে দেখা গেল, এদের কিছু সেট মেন্যু আছে। ফ্রায়েড রাইস এর সঙ্গে ফ্রায়েড চিকেন, আর চাইনিজ সবজি। স্ন্যাকস হিসেবে পাওয়া যায় লুচি, চিকেন চাপ, টক, সালাদ। কোল্ড কফি, হট কফি, সফট ড্রিংকস। আমরা সেট মেন্যুতে না গিয়ে অর্ডার করলাম নকশির স্পেশাল ফ্রায়েড রাইস, চিকেন মাসালা, আর প্রত্যেকের জন্য কোক। ফ্রায়েড রাইস, আর চিকেনের কোয়ান্টিটি ১:৩।

খাবার আসতে সময় লাগবে। এই সুযোগে দুই একজন গেল ওয়াশরুমের দিকে। খানিকবাদেই তারা ফিরে এসে অভিযোগ করল, ভেতরের অবস্থা যাচ্ছেতাই। ব্যাপারটা কর্তৃপক্ষ আমলে নিয়ে দ্রুত ওয়াশরুম পরিষ্কার করে দিল। এই আন্তরিকতা ভালো লেগেছে।

যা হোক, লাঞ্চের টাইম পেরিয়ে যাচ্ছে। অথচ কারো পেটে কিছু পড়েনি। আমরা সবাই পেট কামড়ে বসে আছি। তবু মোটামুটি মিনিট বিশেক অপেক্ষা করতেই হলো। তবে পেটে খিদে নিয়ে যতটা অধীর হয়ে ছিলাম, খাবারের পরিমাণ দেখে ততটা খুশি হওয়া গেল না। তিনজনের জন্য একটু পেট টানই পড়বে মনে হচ্ছিল। পরিমাণটা আসলেই তিনজনের তুলনায় কম।

নকশির চিকেন মাসালা। সোর্স- লেখিকা

ফ্রায়েড রাইস আমার পছন্দের খাবারের মধ্যে অন্যতম। ভাগ্যগুণে খুব জাঁদরেল একজন শেফের রাইস খেয়ে এর প্রেমে পড়ে যাই। তাই নকশির ফ্রায়েড রাইসটা আমার কাছে ততটা স্বাদের মনে হয়নি। যদিও এর ব্যাপারে আমার অতিরিক্ত প্রত্যাশা দায়ী হবার সম্ভাবনাই বেশি। কেননা, নীল আর পিনি বেশ প্রশংসা করল দেখলাম।

তবে খাবার সময় রাইসের ভেতর মুরগি আর খাসির ছোট ছোট করে কাটা টুকরোর সাথে আস্ত চিংড়ির টুকরোগুলো দেখে বেশ আস্বস্ত হলাম। সাথে ছিল প্রিয় কাজু বাদাম। এটা রাইসের স্বাদে কিছুটা হলেও ভিন্নতা এনেছে।

নকশির চিকেন মাসালাটা বেশ ভালো। মুখে দেয়ার আগে এর চেহারাই বলে দিচ্ছিল এটা একটু সুবিধের হবে। তবে মাসালার মধ্যে অতিরিক্ত সবজি দেয়া হয়েছে বলে মনে হলো। যদিও চাইনিজ ঘরানার এই সবজিটা আমার খারাপ লাগেনি।

তথাপি, অনেকেই চিকেনের আইটেম অর্ডার করে তার ভেতর সবজি আশা করে না। আমার মতে, এটা তারা অতিথিদের ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে প্রাধান্য দিতে পারে।

তিনজনের পরিমাণে ফ্রায়েড রাইস ও চিকেন মাসালা। সোর্স- লেখিকা

এর মধ্যে পিনি হুট করে অর্ডার করে বসল কেশনাট সালাদ। খাওয়া-দাওয়া প্রায় শেষের দিকে, এমন সময় অর্ডার পেয়ে দ্রুত পরিবেশন করেছে ওরা। তাই একে কোনো খাবার ছাড়া আলাদা খেতে হয়েছে। যা আমার মোটেই পছন্দের কাজ নয়। যদিও কেশনাট সালাদটা লোকে আলাদাভাবেই খায়।

বলাই বাহুল্য, সালাদটা খুব ভালো হয়েছিল। টমেটো-শসার কুচি, কাজু বাদাম, আর চিকেনের মেলবন্ধন এতোটাই পারফেক্ট যে, এর রং পর্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে গেছে। সত্যি, শেষ পাতে এমন একটি ডিশ না পেলে হয়তো তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে পারতাম না। কিন্তু আফসোস, সালাদটাতে এতোটাই বুঁদ হয়েছিলাম যে এর ছবি নিতে পর্যন্ত ভুলে গেছি।

কেশনাট সালাদ। সোর্স- HomeChef

শেষপর্যন্ত খাবার খেয়ে একটু বসার সৌভাগ্য হয়নি আমাদের। রাজউকের মোবাইল কোর্ট এই অঞ্চলে হানা দেয়ার খবর পেয়ে নকশি কতৃপক্ষ দ্রুত তাদের সবধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। সম্ভবত তাদের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কোনো জটিলতা ছিল।

কী আর করা? ভরপেট খাবার খেয়ে আমরা উঠে পড়লাম। এতো কষ্ট করে এতোদূর আসা সার্থক না হলেও, একেবারে ফেলনাও নয়।

রেটিং

ফ্রায়েড রাইস- ৭/১০
চিকেন মাসালা- ৮/১০
সালাদ- ১০/১০

অবস্থান

পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্প, সেক্টর-১। তুরাগ নদীর পাড় থেকে একটু ভেতরের দিকে। তবে রাস্তার মুখে ওদের বড় সাইনবোর্ড আছে। ওটা একটা ভালো দিক নির্দেশক হিসেবে কাজ করে।

কীভাবে যাবেন

কুড়িল বিশ্বরোড থেকে তিনশো ফিটের রাস্তা ধরে বালুর ব্রিজের পর পূর্বাচল বাজার পড়বে। বাজার সংলগ্ন মেইন রোড থেকে হাতের ডানদিকে গিয়ে যে কাউকে বললে দেখিয়ে দেবে নকশির রেস্টুরেন্টটিকে। এটি পূর্বাচল আবাসিক এরিয়ার ১ নম্বর সেক্টরে চমৎকার একটা নিরিবিলি পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছে।

- Advertisment -

সর্বশেষ

মানবতার ফেরিওয়ালা চিত্রনায়ক জায়েদ খান

0
এম.ডি নাঈম হোসেন: সারা পৃথিবীতেই করোনাকালের ঈদ প্রকৃতপক্ষে ঘরে থাকার ঈদ হিসাবেই গন্য করা হচ্ছে যার যার সচেতনতা ও আবেগের জায়গা থেকে।এই পরিস্থিতি’তে অনেকেই নিজ...
Shikari

Shikari

সৃজিতকে ছাড়াই কাটল মিথিলার ঈদ !