বলিউড আবারও হারাল তার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে। স্তব্ধ হয়ে গেল ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্রর দীর্ঘ, দীপ্তিময় যাত্রা। সোমবার (২৪ নভেম্বর) মুম্বাইয়ের বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ৮৯ বছরের জীবন থেমে গেল নিঃশব্দ বিকেলে, রেখে গেল অসংখ্য স্মৃতি আর রুপালি পর্দায় অমর হয়ে থাকা চরিত্রগুলো।
ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের খবর প্রথম শেয়ার করেন বলিউড নির্মাতা করণ জোহর। ইনস্টাগ্রামে অভিনেতার ছবি দিয়ে তিনি লেখেন—এক যুগের পরিসমাপ্তি। করণের ভাষায়, ধর্মেন্দ্র ছিলেন শুধু নায়ক নন, এক রহস্যময় উপস্থিতি; সৌন্দর্য, শক্তি, ব্যক্তিত্ব—সব মিলিয়ে এক অনন্য আইকন। “আপনার সঙ্গে কাজ করা আমার জীবনের সৌভাগ্য,” জানান তিনি। করণের মতে, ইন্ডাস্ট্রিতে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা কখনোই পূরণ হবে না।
বর্ষীয়ান এই অভিনেতা বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। মাসের শুরুতে তার মৃত্যুর ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ে; পরে পরিবার তা অস্বীকার করে। শেষদিকে বাসাতেই চিকিৎসা চলছিল। সোমবার তার বাড়ির সামনে অ্যাম্বুলেন্স দেখা গেলে আবারও গুঞ্জন ছড়ায়। শোবিজের কয়েকজন শিল্পী বাড়িতে পৌঁছান। পরিবারের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি যদিও এখনও আসেনি, কিন্তু বলিউডজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে গভীর শোক।
১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পাঞ্জাবের লুধিয়ানা জেলার সাহনেওয়ালে জন্ম ধর্মেন্দ্রর। ছোটবেলা থেকেই সিনেমা ছিল তার আশ্রয় ও স্বপ্ন। ফিল্মফেয়ার ট্যালেন্ট কনটেস্টে বিজয়ের পর তার হাতে আসে প্রথম সুযোগ। ১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’ দিয়ে যাত্রা শুরু। এরপর ‘শোলা অউর শবনম’, ‘বন্দিনী’, ‘ফুল অউর পাথর’, ‘সত্যকাম’—প্রতিটি ছবিই তাকে পোক্ত করেছে, গড়েছে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া একজন সুপারস্টারে।
পরবর্তী কয়েক দশক জুড়ে ভারতীয় জনপ্রিয় সিনেমার সোনালি অধ্যায়ে যে নামটি অবিচ্ছেদ্য—তিনি ধর্মেন্দ্র।
চলে গেলেন এক কিংবদন্তি। রয়ে গেল অগণিত দর্শকের ভালোবাসা আর ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসে অমিট হয়ে থাকা তার নাম।






